Ticker

5/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

আজকে একটা গল্প বলবো। একটা একা পাখির গল্প...

আজকে একটা গল্প বলবো। একটা একা পাখির গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাইডের গল্প যেটা আসলে কেউ বলে না।

ছবিটা একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখবেন একটা বড় পার্থ্যক্য আছে অন্য সবার গ্রুপ ছবি থেকে।আমাদের গাউনের রঙ আলাদা।আসলে আমি এখানকার কাউকেই চিনি না।গ্র‍্যাজুয়েশনের দিন টা পুরাটাই মন খারাপ ছিল।স্বাভাবিক ভাবে আমার মত মানুষদের বিশেষদিনে এমনটা হয়।তারা কিছু মিস করতে থাকে বাট সেই অদ্ভুত জিনিসটা আসলে কি নিজেরাই বুঝতে পারেনা। সারাদিন মন খারাপ থাকে।শেষ পর্যায়ে একটা গ্রুপ ছবি না তুলতে পেরে প্রচন্ড মন খারাপ ছিল।কেন জানি কান্না পাচ্ছিলো। অসহায় মনে হচ্ছিল নিজেকে।বড় একা মনে হচ্ছিলো। শেষমেষ গিয়ে সিনেটে দেখলাম উনারা ছবি তুলছে। হেলথ ইকোনমিকস ডিপার্টমেন্টের। উনাদের ছবি তুলতে দেখে রিকুয়েস্ট করে বসি একটা ছবি তোলার জন্য।উনারা এত না চিনেও এমন ভাবে আপন করে নিয়েছিলেন যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন তাদের সাথেই কাটিয়েছি।কি অদ্ভুত তাই না!



ছবি দেখে কিন্ত বুঝার কোন উপায় ই নেই। কাছে থেকে ভুল ত্রুটি মেনে নিয়ে আসলে খুব কম মানুষই ভালোবাসতে পারে।শুধু তারাই ভালোবাসা ফেরত পাওয়ার যোগ্য।তাদের নিয়ে পৃথিবীটা অনেক ছোট হলেও আসলে ভেজালমুক্ত পৃথিবী।ফেইক জিনিসপত্র দিয়ে ভরা এত বড় পৃথিবী থেকে অনেক ভালো।
এই ছবিটা আমি বাধাই করে রাখবো।এই ফেসগুলা দেখবো। এখানে কারো ফেসে আমার প্রতি কোন ঘৃনা নাই। কোন সমস্যা নাই।সবার কাছে আমি এক্সেপ্টেড।এক মুহুর্তের জন্য হলেও।

এই ছবিটা আমাকে মনে করিয়ে দিবে আসলে কি ছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।এই ছবিটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে আমাকে যে আসলে আমার অস্তিত্ব কতটুকু।আমি কতটুকু একা শুধু দিনশেষে নয় সবসময়ই।
মাঝে মাঝে আমার নিজেকে অভিশপ্ত মনে হয়।সেই ছোট বেলা থেকে যাকেই ভালোবাসি না কেন যাই ভালোবাসি না কেন ঝামেলা হয়ে যায়। যদি কখনো একটা বিড়ালকেও প্রচণ্ড ভালোবাসতাম হয় সেটা হয় মরে যেত নইলে আম্মু দূরে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসতো। আর মানুষের ক্ষেত্রে তো এসব ঝামেলা আরো প্রকট। এজন্য এখন আর ভালোবাসতে ইচ্ছা করে না।কাউকেই না কোন কিছুকেই না।কারো সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে গেলে উলটা সেটা খারাপ হয়ে যায়।সমাজের বাধাধরা একগাদা ফরমালিটি এখনো তেমন একটা আয়ত্তে আসে নাই।মুখে যা আসে বলে ফেলি।তাই অনেক ভুল হয়। ফেইক ফরমালিটি ভালো লাগেনা। এজন্য ইদানিং রাস্তা ঘাটে অনেক ভালো মানুষের সাথে দেখা হলেও তাদের এড়িয়ে চলি।দূরত্ব থাকুক সম্পর্ক ভালো থাকবে।

কেউ আমাকে একবার বলেছিল'তুমি মানুষের সাথে প্রথম দেখায় কোন ইম্প্রেশন তৈরি করতে পারো না।' কথাটা এখনো কানে বাজে আমার। হয়তো তাই।হয়তো পারিনা। কারণ হয়তো আমি চাই আমি ঠিক যতটুকু ঠিক ততটুকুর জন্য কেউ আমাকে ভালোবাসুক।

বিশ্ববিদ্যালয় ,এমন একটা জায়গা যেখানে শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত যা কিছু দেখবেন তার বেশিরভাগই ফেইক। ফেইক বন্ধুত্ব ভালোবাসা,সম্পর্ক প্রায় সবই করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজনে বা ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে এমন অনির্দিষ্ট প্রয়োজনে।

ভালোবাসা বন্ধুত্বের নামে যা হয় তার প্রায় বেশিরভাগই বিনিয়োগ।এখানে ম্যাটার করে ইমিডিয়েট রেট অফ রিটার্ণ অর পার্সেন্টেজ অফ রিটার্ণ ইন দা ফিউচার। সব ঠিক থাকলে ভালোবাসা বা সম্পর্ক ঠিক থাকে। দরপতনের ঝুকি দেখলেই সে ভালোবাসা সস্তায় বিক্রি হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়,এমন একটা জায়গা যেখানে যে আপনাকে ভালোবাসে সে আপনার ফ্রেন্ড,আর আপনি জানেন ১০ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার সময় দেখেও না দেখার ভান করবে সেও আপনার ফ্রেন্ড।ছবির ক্যাপশনে তাই লিখতে হয়।

শুন্য হাত কেউ ভালোবাসে না।এক্সেপ্টেড হওয়ার জন্য রূপ বা গুণ অথবা টাকা থাকতে হবে আপনার।কিছু না কিছু থাকতে হবে।এবং তা দৃশ্যমান হতে হবে।ঠিক আপনি যতটুকু ঠিক ততটুকুর জন্য আপনাকে কেউ ভালোবাসবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে নিজেদের মধ্যে ঐক্য জিনিসটার নামে যা কিছু করা হয় তার পুরোটাই মিথ্যা।এর থেকে বড় মিথ্যা পৃথিবীতে আর কিছু নাই।

১০ -১৫ টা বন্ধু থাকা বা সবাই আপনার বন্ধু তার মানে কেউই আপনার বন্ধু নয়।মানুষ অনেক লাকি হয় যখন তার একটা বেস্ট ফ্রেন্ড থাকে।বেস্ট ফ্রেন্ড কখনো ২ টা হয় না।
বিশ্ববিদ্যালয়,এখানে সব থেকে বড় ভুল টা মানুষ যেটা করে তা হল, কারো সাথে মিশতে গিয়ে অনেকটা নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে বসে।দিন শেষে নিজেকে খুজেই পায় না।পরে না থাকে বন্ধুত্ব না থাকে ভালোবাসা না থাকে নিজের অস্তিত্ব।

সব সময় মনে রাখা উচিত যেকোন ধরনের সম্পর্ক বা বন্ধুত্বের উর্ধে নিজের আত্নসম্মানবোধ।
যেখানে কন্টিনিউয়াসলি নিজেকে প্রুভ করতে হয়,যেখানে আপনি খাপ খাওয়াতে পারেন না সেখান থেকে সময় থাকতে সরে আসতে হয়।নইলে অনেক বড় ভুল হয়ে যায়।
তার থেকে একা থাকুন ভালো থাকবেন।

©রাকিব হাসান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ