আমি এক আপুকে চিনি যার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে বিয়ের কথা চলছিল, পরিবার থেকেও মেনে নিছিল। কিন্তু বিয়ের আগেই বয়ফ্রেন্ড এক্সিডেন্ট করে মারা যায়। তারপর থেকে ৯ বছর পার হয়ে গেছে। সেই আপু অন্য কাউকে আর বিয়ে করেন নাই।
আপু অসাধারণ সুন্দরী ছিলেন, এখনো আছেন। অনেক ভাল বিয়ের প্রস্তাব আসছিল। কিন্তু আপু বিয়ে করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করে আছেন। আপু কথা দিয়েছিলেন একজনকে ছাড়া লাইফে কাউকে জীবনসঙ্গি বানাবেন না। সেই কথাই রেখেছে চলেছেন।
আপুর পরিবার থেকে অনেক চাপ দেয়া হয়েছে, বন্ধু বান্ধবের পক্ষ থেকেও বলা হইছে এইটা বোকামি! যে চলেগেছে এই জগত থেকে তার জন্য এভাবে নিজের জীবন নষ্ট করার কোন মানে হয়না। কিন্তু আপু অনড় তার প্রতিজ্ঞায়। তাইতো উচ্চ শিক্ষিত, মার্জিত আর সুন্দরী সেই আপু এখনো একাই আছেন।
দিন বদলাইছে এখন। এইসব ঘটনা শুনলে ইয়ো ইয়ো কিডরা অবাক হয়। এইটা কিভাবে সম্ভব!!! একজনের জন্য পুরো লাইফ নষ্ট? ওহ নো!
এখন তো রাস্তায় দেখা হওয়ার/ ফেসবুকে পরিচয় হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে প্রপোজ করা হয় আর ১০ মিনিটের মধ্যে রিলেশন হয়ে যায়। আবার ৪ মিনিটের মাথায় ব্রেকাপও হয়ে যায়। তারপর ১ মিনিট মন খারাপ করে পিসি রিস্টার্ট এর মত মাইন্ডটা রিস্টার্ট দিয়ে নতুন পার্টনার খোঁজার জন্য সবাই বেড়িয়ে পড়ে।
ভালোবাসা এখন দামী রেস্টুরেন্টের খাবার আর দামী শপিং মলের গিফটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যার গিফট যত দামী সে তত বেশী ভাল বয়ফ্রেন্ড। যে মেয়ে যত উগ্র সে তত হট গার্লফ্রেন্ড।
হটপট #গার্লফ্রেন্ড আর স্মার্ট #বয়ফ্রেন্ডদের এই জামানায় অনেস্ট ভালোবাসা বড়ই দুর্লভ, সবাই স্বার্থের পিছনেই দৌড়ায়।
এখন প্রমিজডেতে প্রমিজ করা হয় কিন্তু পরবর্তী প্রমিজডে আসার আগেই সেই প্রমিজ আরও ১০০ জনকে করা হয়। কতবার সেই প্রমিজ ভাঙল তার হিসাব রাখারও সময় নাই। ছেলে মেয়ে সবাই এখন বড় বেশী কর্পোরেট হয়ে গেছে।
এই বসন্তে ডেকে উঠুক কিছু স্বার্থহীন #ভালোবাসার কোকিল।

0 মন্তব্যসমূহ